গাইড
টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেট: তিন ফরম্যাটের নিয়মের পার্থক্য সহজ বাংলায়

সর্বশেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ · লিখেছেন 9wickets team
T20 vs ODI vs টেস্ট ক্রিকেটের নিয়মের পার্থক্য মূলত তিন জায়গায়: ম্যাচ কতক্ষণ চলে (২০ ওভার, ৫০ ওভার নাকি সর্বোচ্চ ৫ দিন), একজন বোলার কত ওভার বল করতে পারেন, আর ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা বা পাওয়ারপ্লে কেমন। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সীমিত ওভারের খেলা, তাই এখানে নো বলের পর ফ্রি হিট আছে এবং ম্যাচ ড্র হয় না; টেস্টে ওভারের সীমা নেই, ফ্রি হিট নেই, আর ম্যাচ ড্র হতে পারে। নিচের টেবিলে এক নজরে সব পার্থক্য, তারপর প্রতিটি ফরম্যাটের বিস্তারিত।
এক নজরে তুলনা টেবিল
| নিয়ম | টি-টোয়েন্টি | ওয়ানডে | টেস্ট |
|---|---|---|---|
| ইনিংস প্রতি ওভার | ২০ | ৫০ | সীমা নেই (দিনে সাধারণত ৯০ ওভার) |
| প্রতি দলের ইনিংস | ১টি | ১টি | ২টি |
| ম্যাচের দৈর্ঘ্য | প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা | প্রায় সাত-আট ঘণ্টা | সর্বোচ্চ ৫ দিন |
| বোলারের সর্বোচ্চ ওভার | ৪ | ১০ | সীমা নেই |
| পাওয়ারপ্লে | ১-৬ ওভার | ১-১০, ১১-৪০, ৪১-৫০ তিন ধাপ | নেই |
| নো বলের পর ফ্রি হিট | আছে | আছে | নেই |
| সম্ভাব্য ফল | জয়, হার বা টাই | জয়, হার বা টাই | জয়, হার, ড্র বা টাই |
| বৃষ্টিতে লক্ষ্য নির্ধারণ | DLS পদ্ধতি | DLS পদ্ধতি | প্রযোজ্য নয় |
এই টেবিল আন্তর্জাতিক পুরুষ ক্রিকেটের সাধারণ নিয়মের ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট টুর্নামেন্ট বা সিরিজের প্লেয়িং কন্ডিশনে কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মূল নিয়ম
টি-টোয়েন্টিতে প্রতি দল সর্বোচ্চ ২০ ওভার ব্যাট করে। একজন বোলার ৪ ওভারের বেশি বল করতে পারেন না। প্রথম ৬ ওভার পাওয়ারপ্লে, যখন ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ ২ জন ফিল্ডার থাকতে পারেন; পাওয়ারপ্লের পর এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ জন। বিপিএল, আইপিএল ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এই ফরম্যাটেই খেলা হয়।
ছোট ম্যাচে পাওয়ারপ্লে
বৃষ্টিতে ওভার কমে গেলে পাওয়ারপ্লের দৈর্ঘ্যও আনুপাতিকভাবে কমে। ২০২৫ সাল থেকে আইসিসি এই হিসাব নিকটতম ওভারের বদলে নিকটতম বল ধরে করার নিয়ম চালু করেছে।
ওয়ানডে ক্রিকেটের মূল নিয়ম
ওয়ানডেতে প্রতি দল ৫০ ওভার পায় এবং একজন বোলার সর্বোচ্চ ১০ ওভার বল করতে পারেন। ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা তিন ধাপে: ১-১০ ওভারে বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ ২ জন, ১১-৪০ ওভারে ৪ জন, আর ৪১-৫০ ওভারে ৫ জন। পাওয়ারপ্লের ইতিহাস ও বিবরণ পাবেন পাওয়ারপ্লে নিয়ে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে।
বল ব্যবহারের নিয়ম
ওয়ানডেতে দুই প্রান্ত থেকে আলাদা বল ব্যবহার হয়। ২০২৫ সালের পরিবর্তনে ৩৪ ওভারের পর ফিল্ডিং দল ব্যবহৃত দুটি বলের একটি বেছে নিয়ে বাকি ইনিংস দুই প্রান্ত থেকেই সেটি দিয়ে খেলে, বিস্তারিত দেখুন আইসিসির ২০২৫ সালের নিয়ম পরিবর্তনের সারসংক্ষেপে।
টেস্ট ক্রিকেটের মূল নিয়ম
টেস্টে প্রতিটি দল দুটি করে ইনিংস খেলে, ম্যাচ চলে সর্বোচ্চ ৫ দিন, আর দিনে সাধারণত ৯০ ওভার খেলা হয়। বোলারের ওভারের কোনো সীমা নেই। ৮০ ওভার পর ফিল্ডিং দল নতুন বল নিতে পারে। প্রথম ইনিংসে অন্তত ২০০ রানে এগিয়ে থাকলে (৫ দিনের ম্যাচে) প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করানো যায়। নির্ধারিত সময়ে দুই দলের ইনিংস শেষ না হলে ম্যাচ ড্র।
টেস্টে স্টপ ক্লক
২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে টেস্টেও স্টপ ক্লক চালু হয়েছে। এক ওভার শেষে পরের ওভার শুরু করতে ফিল্ডিং দলকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রস্তুত থাকতে হয়; দুই সতর্কবার্তার পর ৫ রান জরিমানা।
নিয়মের কারণে খেলার কৌশল কীভাবে বদলায়
একই খেলা হলেও নিয়মের পার্থক্যের কারণে তিন ফরম্যাটে দলগুলোর পরিকল্পনা একেবারে আলাদা হয়।
ব্যাটিং
টি-টোয়েন্টিতে বল কম, তাই শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলাই লক্ষ্য, বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে যখন বৃত্তের বাইরে ফিল্ডার কম থাকে। ওয়ানডেতে শুরুতে উইকেট ধরে রেখে শেষ দশ ওভারে গতি বাড়ানো হয়। টেস্টে উইকেট বাঁচানোই প্রধান, কারণ সময় থাকলেও ইনিংস একবার শেষ হলে আর সুযোগ নেই।
বোলিং
টি-টোয়েন্টিতে প্রতিটি বোলারের মাত্র ৪ ওভার থাকায় অধিনায়ককে কমপক্ষে পাঁচজন বোলার ব্যবহার করতে হয় এবং রান আটকানোই মূল কাজ। ওয়ানডেতে ১০ ওভারের সীমা থাকায় সেরা বোলারদের পর্বগুলো ভাগ করে ব্যবহার করা হয়। টেস্টে উইকেট নেওয়াই লক্ষ্য, তাই বোলাররা দীর্ঘ স্পেলে একই পরিকল্পনায় ব্যাটারকে চাপে রাখেন।
অধিনায়কত্ব ও ফিল্ডিং
পাওয়ারপ্লের সীমাবদ্ধতা অধিনায়কের ফিল্ড সাজানোর স্বাধীনতা কমায়। টেস্টে এমন সীমাবদ্ধতা না থাকায় স্লিপ, গালি ও শর্ট লেগে আক্রমণাত্মক ফিল্ডার রাখা যায়, যা সীমিত ওভারে প্রায়ই সম্ভব হয় না।
যে নিয়ম তিন ফরম্যাটেই একই
- আউটের ধরন যেমন বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ, রান আউট ও স্টাম্পিং।
- ২২ গজের পিচ ও মাঠের মৌলিক মাপ; বিস্তারিত পড়ুন ক্রিকেট মাঠের মাপ।
- এক দলে ১১ জন খেলোয়াড় এবং প্রতি ওভারে ৬টি বৈধ বল।
- আন্তর্জাতিক ম্যাচে ডিআরএস বা রিভিউ ব্যবস্থা।
এই নিয়মগুলোর মূল ভিত্তি এমসিসির Laws of Cricket, যার ওপর আইসিসি প্রতিটি ফরম্যাটের জন্য আলাদা প্লেয়িং কন্ডিশন যোগ করে।
কোন ফরম্যাট কার জন্য
| আপনি যা চান | উপযুক্ত ফরম্যাট |
|---|---|
| দ্রুত, উত্তেজনাপূর্ণ খেলা | টি-টোয়েন্টি |
| ব্যাট ও বলের ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই | ওয়ানডে |
| কৌশল, ধৈর্য ও খেলোয়াড়ের দক্ষতার পূর্ণ পরীক্ষা | টেস্ট |
ক্রিকেটের মৌলিক সব নিয়ম একসাথে দেখতে পড়ুন ক্রিকেটের নিয়ম, আর দলগুলোর বাংলা নাম জানতে দেখুন ক্রিকেট দলের নাম বাংলায়।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
কোন ফরম্যাট সবচেয়ে পুরনো?
টেস্ট ক্রিকেট। প্রথম টেস্ট হয় ১৮৭৭ সালে, প্রথম ওয়ানডে ১৯৭১ সালে এবং প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ২০০৫ সালে।
টেস্টে ফ্রি হিট নেই কেন?
ফ্রি হিট সীমিত ওভারের খেলায় নো বলের জন্য বাড়তি শাস্তি হিসেবে চালু হয়েছে। টেস্টে নো বলে শুধু অতিরিক্ত রান যোগ হয়, পরের বল ফ্রি হিট হয় না।
DLS পদ্ধতি কী?
বৃষ্টি বা অন্য কারণে সীমিত ওভারের ম্যাচে ওভার কমে গেলে লক্ষ্য রান নতুন করে ঠিক করার গাণিতিক পদ্ধতি। টেস্টে এটি ব্যবহার হয় না।
একজন বোলার টি-টোয়েন্টিতে কত ওভার বল করতে পারেন?
সর্বোচ্চ ৪ ওভার। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ১০ ওভার, আর টেস্টে কোনো সীমা নেই।
টাই হলে কী হয়?
টি-টোয়েন্টিতে সাধারণত সুপার ওভারে ফল নির্ধারণ হয়। ওয়ানডেতে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সুপার ওভার হতে পারে, আর টেস্টে টাই খুবই বিরল ঘটনা।
শেষ কথা
টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্টের মধ্যে মূল পার্থক্য ওভার, বোলিং সীমা, পাওয়ারপ্লে আর ফলাফলের ধরনে। আউটের নিয়ম ও মাঠের মাপ একই থাকে, তাই একটি ফরম্যাট বুঝলে বাকিগুলো বোঝা সহজ। লাইভ ম্যাচ দেখতে দেখতে নিয়মগুলো মিলিয়ে নিতে চাইলে ঘুরে আসুন লাইভ ক্রিকেট পেজে।
আরও পড়ুন
সম্পর্কিত গাইড

বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ ২০২৬: সূচি, স্কোয়াড ও হেড-টু-হেড
সংক্ষেপে উত্তর: বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ ২০২৬-এ মোট দুটি ম্যাচ। প্রথম টেস্ট ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে,…
সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন
বাংলাদেশের খেলার সূচি: অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬, সব ম্যাচ বাংলাদেশ সময়ে
বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলার সময়সূচি ২০২৬-এর শেষ তিন মাস বেশ ব্যস্ত। অক্টোবরে আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ, তারপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট,…
সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন
ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ (LBW) আউটের নিয়ম: সহজ বাংলায় পূর্ণ ব্যাখ্যা
সর্বশেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ · লিখেছেন 9wickets team · সূত্র: MCC Laws of Cricket, Law 36 ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ নিয়ম অনুযায়ী, বল ব্যাটে না…
সম্পূর্ণ গাইড পড়ুনএই গাইড কাজে লাগানোর সময় এখনই
বিকাশ, নগদ বা রকেট দিয়ে 9Wickets অ্যাকাউন্ট খুলুন, অথবা সাহায্য লাগলে সরাসরি সাপোর্টে কথা বলুন।